আত্মার প্রতিচ্ছবি -পাঁচ-বিকে সিস্টার শিবানী*

 *আত্মার প্রতিচ্ছবি* 
———— *ব্রহ্মাকুমারী সিস্টার শিবানী*
 *পর্ব - ৫* 
 *ওম শান্তি*  
*আমাদেরকে সকাল সকাল উঠে নিজ আত্মার মধ্যে ভালো ভালো জ্ঞান ভরতে হবে। মনের মধ্যে শুদ্ধ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কিন্তু এই রকম হওয়া যাবে না যে, সকালে তো ভালো ভালো জ্ঞান ভরে নিয়েছি, তথাপি সারাদিন এদিক ওদিক থেকে অপ্রয়োজনীয় ফালতু কথাও ভরেছি। তাহলে সকালে ভরা ভালো জ্ঞানের কোন প্রভাব থাকবে না......।*
বিকে শিবানী
*আমি কোনো এক পেশার সাথে যুক্ত আছি। আমাকে আমার পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত কোন জরুরী তথ্য পড়তে হচ্ছে। কিন্তু তার সাথে সাথে এদিক-ওদিক এর ফালতু তথ্যও পড়ছি। যাতে নাকারাত্মকতা আছে, সেটাই আত্মাকে দুর্বল করে দেয়।*
*আজ আমার জীবনে যা কিছু প্রাপ্তি ঘটেছে, আমি যেটা পড়ছি, শুনছি, সেই সব কিছুই আমরা গ্রহণ করি। কিন্তু গ্রহণ করার আগে সেটি সাকারাত্মক না নাকারাত্মক, তা বিচার করি না। আমরা যেরকম তথ্য গ্রহণ করবো, আমাদের চিন্তা ভাবনাও সেই অনুসারে তৈরি হবে।*
*পরমাত্মা আমাদের শেখান যে, সকাল সকাল নিজেদের মধ্যে ভালো জ্ঞান আহরণ করো, আর সারাদিনে ওই জ্ঞান চিন্তন করো। তাহলে আমাদের চিত্ত শুদ্ধ থাকবে এবং তদনুরূপ আমাদের কথাবার্তা ও ব্যবহারে তা প্রকাশ পাবে।*
*এখন আমাকে এই কাজটি করতে হবে যে আমি কোন কথাগুলো চিন্তা করবো, কোন কথাগুলো মন থেকে মুছে দেব আর কোন কথাগুলো অন্তরে সঞ্চিত করে রাখবো।*
*তথ্য সংগ্রহের সময় এসব কথাও মনে রাখতে হবে যে, আমাকে নাকারাত্মক কোন তথ্য পড়াও যাবে না শোনাও যাবে না, যেটা আমাকে দুর্বল করে দেয়। কিন্তু যদি কোনো কারণে এইরকম হয়ে যায় বা আমাদের মনে যদি কোনো অস্থিরতা বা নাকারাত্মকতা চলতে থাকে, তখন নিজ আত্মার মধ্যে ভালো তথ্যের সঞ্চার করতে হবে। পরমাত্মার জ্ঞান পড়ে বা কোন ভালো বই পড়ে ওই নাকারাত্মকতাকে বাধা দিতে হবে। এমন নয় যে কিছু সময় পরে, পড়ে নেব, না, সেই সময়ই নিজের মধ্যে ভালো ভালো তথ্যের সঞ্চার করতে হবে। যতখানি আমরা সাকারাত্মক হতে পারব, সাকারাত্মকতার দিকে যাব, ততই আমাদের আত্মা শক্তিশালী হয়ে উঠবে।*
*আমাদের নিজের কাছে সর্বদা কিছু ভালো ও সাকারাত্মক তথ্য রাখতে হবে। পরমাত্মার কোন জ্ঞানের বই, ভালো কিছু কথা কোথাও লিখে রাখতে হবে, আর যখনই আমাদের মন দুখি - অশান্ত হয়ে যাবে, নাকারাত্মকতার দিকে যেতে থাকবে, তখন সেই পরিস্থিতি থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য, ওই সময় কিছু ভালো ভালো কথা পড়তে বা শুনতে হবে, যার দ্বারা আত্মা শক্তিশালী হয়ে উঠবে.......।*
*সর্বদা স্মরণে থাকে যে, আমাকে সাকারাত্মক তথ্য গ্রহণ করতে হবে, নাকারাত্মক তথ্য মুছে ফেলতে হবে, আর ভালো ভালো কথা সঞ্চয় করতে হবে।*
 *।।ওম শান্তি।।* 


মনের উপরে খাওয়া দাওয়ার প্রভাব*

মনকে শক্তিশালী করবার বিধি* - 
💥✊🏻💪🏻
*আজ্ঞা চক্র - ২২ - মনের উপরে খাওয়া দাওয়ার প্রভাব*
🙏🏻☸👤🍽🍱

কেউ কেউ কাজের লোককে দিয়ে রান্না তৈরি করায় কিন্তু তাকেই খেতে দেয় না। যে খাবার তৈরি করে সেই কর্মচারীর মনের মধ্যে খাবারটি খাওয়ার ইচ্ছা জন্মাতে পারে, কিন্তু সে সেই খাবার পায় না। ওই খাবারে মানসিক ভাবে দোষ এসে যায়। খাবার তৈরি করার জন্য সেই ব্যাক্তিই উপযুক্ত, যার হৃদয় মায়ের মতো বড়। খাবার সেই ব্যাক্তির দ্বারাই তৈরি করা উচিত, যাকে খাদ্য বানানোর জন্য আজ্ঞা দেবার সাথে সাথে খাবার বানানোর জন্য সে খুশি হয়। যদি সে মৃত মন দিয়ে খাবার তৈরি করে, তাহলে সেই খাবার মানসিক ভাবে কমজোর তৈরি হয়।

খাবার কি চিন্তা নিয়ে খাচ্ছে ❗তুমি কি আনন্দের সঙ্গে খাবার খাচ্ছ, নাকি দুঃখিত হয়ে মন খারাপ করে চিন্তাশীল হয়ে থাক, *এরকম খাবারের প্রভাব মনের জন্য বিষবৎ হয়*।

পরীক্ষা করে দেখার জন্য একটি বিড়ালকে খাবার খাওয়ানো হচ্ছিল এবং তার সঙ্গে একটি এক্সরে মেশিন লাগিয়ে রাখা হয় । যখনই ওর পেটে খাবার পৌঁছানোর জন্য রস ক্ষরিত হয় তখনই সেই ঘরে একটি কুকুরকে ছেড়ে দেওয়া হল। কুকুরটিকে চেঁচাতে দেখে বিড়াল ভয় পেয়ে গেল। আর তার পেটে খাবার পৌছানোর জন্য যে রস নিঃসরণ হচ্ছিল, তা বন্ধ হয়ে গেলো। কুকুরটি ওখান থেকে চলে যাওয়ার পরের ৬ ঘন্টা পর্যন্ত বিড়ালটির পেটে খাবার মৃতবৎ পড়েছিল।

*এরকম ভাবেই যদি আমরাও চিন্তা, ভয়, উদাস ভাব বা অন্য কোনো দুঃখে থেকে খাবার খাই, তবে সেই খাবার ঠিক মতো ভাবে হজম হয় না। এটা আমাদের মনের চিন্তা ভাবনার উপরে প্রতিকূল প্রভাব ফেলে*।

খাবার যেন শারীরিক, নৈতিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিক উন্নতি করার সাথে স্নেহ প্রেম দয়া অহিংসা বা শান্তি আদি গুণ গুলির বর্ধনকারী হয় ।

*এর জন্য গরুর দুধ, ত্রিফলাচূর্ণ, সবুজ শাকসব্জি, বিভিন্ন ঋতুর ফল, কোনো না কোনো ড্রাই ফ্রুটস, খাদ্যশস্য এবং আমলকী জাতীয় খাবার হল পর্যাপ্ত খাবার*।

মনের খিদেকে তৃপ্ত করার জন্য যতটা প্রচেষ্টা করা হয়, তাতে খিদে অত্যধিক বাড়তে থাকে। কিন্তু তা পূরণ করার জন্য মানুষ ছলনা, লুটপাট, অপরাধ, হত্যা ইত্যাদি কুকর্মের দিকে এগিয়ে চলে, তার পরিণাম স্বরূপ ভয়, অশান্তি, ক্রোধ, ঘৃণা পাওনা হয়।

মনের খিদে জ্ঞান দ্বারাই পূর্ণ করা সম্ভব। এর জন্য লক্ষ্য রাখা উচিত - প্রতিনিয়ত ১০ - ২০ পাতা কোনো নুতন বই পড়া উচিত আর ভগবানকে স্মরণে রাখা উচিত। কিন্তু যদি না পড়ি আর ভগবানকে স্মরণ না করি, তাহলে মনের খিদে মিটবে না। আর এই মন একদিন তোমাকে নিচে নামিয়ে দেবে । তাতে যত বড় মহান হও না কেন, একটা প্রবাদ আছে - পেট তো ভরে আছে, কিন্তু এর মনের খিদে রয়ে গেছে । এটা মনের ভাব উৎপন্ন করেছে বুঝতে হবে। অতএব শরীর বা মনের খিদের মধ্যে তফাৎ বুঝতে হবে।
♦💱♦💱♦💱♦💱♦💱♦

ভয়

🙏ওম শান্তি 🙏

*এক মাটির প্রদীপ সারারাত অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই করে ----আপনি তো ভগবানের প্রদীপ, তো আপনার কিসের ভয় ?*

🌻🌻 *বি.কে.সিস্টার শিবানী*🌻🌻

ক্রোধ হতে শিক্ষা

অমূল্য বচন*👌

*যদি কোনো মানুষ তার খারাপ সংস্কার ত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত না থাকে, তাহলে আমরা নিরাশা আর ক্রোধ করার পরিবর্তে তার থেকে এমন শিক্ষা নেবো যে, আমরাও আমাদের ভালো গুণ ত্যাগ না করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবো ।*

🌺🌺ওম শান্তি 🌺🌺

☘🌻☘🌻☘🌻☘🌻☘🌻

মনের অসুস্থতা

*অাজকের মিষ্টি মোতি*💧

১০ ই জুলাই :-- *মনের অসুস্থতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গীতায় ঈশ্বরের উল্লিখিত মহাবাক্য --"মনকে আমার স্মরণে আনো, অর্থাৎ "মনমনাভব" হয়ে যাও ।"*

🙏🙏ওম শান্তি 🙏🙏

🌹🌹ব্রহ্মাকুমারীজ 🌹🌹

💧💧💧💧💧💧💧💧💧

'ইচ্ছাশক্তি'

🌹✨অাজকের প্রেরণা ✨🌹✨

*'ইচ্ছাশক্তি' এমনই এক শাস্ত্র, যার প্রয়োগে আমরা জীবনে সবকিছুই পরিবর্তন করতে পারি ।*

✨✨ *আজ থেকে আমরা ইচ্ছাশক্তির প্রয়োগ করে নিজের জীবনে যেন সাকারাত্মক পরিবর্তন আনতে পারি ---*

🌹🌹মধুবন 🌹🌹

☀❣☀❣☀❣☀❣☀

ঈশ্বরকেও দেখা যায় না

অাজকের মিষ্টি মোতি*💧

১২ ই জুলাই :-- *হাওয়া যেমন জীবনের জন্য অত্যন্ত জরুরী, কিন্তু তা দেখা যায় না । সেই প্রকারে ঈশ্বরকেও দেখা যায় না, কিন্তু তিনিও আমাদের জীবনতরীর পাল ।*

🙏🙏 *ওম শান্তি*🙏🙏

🌹🌹ব্রহ্মাকুমারীজ 🌹🌹

💧💧💧💧💧💧💧

গ্রহণ

১৩ ই জুলাই, ২০১৯

✨🌹✨অাজকের প্রেরণা ✨🌹✨

*যা কিছু আমাদের, তা আমাদের কাছে অবশ্যই আসে, যদি আমরা তাকে গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখি ।*

✨✨ *আজ থেকে আমরা আমার হৃদয়ে সেইসব জিনিসের জন্য জায়গা তৈরী করবো, যা জীবন আমাদের প্রদান করবে ----*

🌹🌹মধুবন 🌹🌹

☀❣☀❣☀❣☀❣☀❣☀

শুভ অমৃতবেলার যোগ

শুভ অমৃতবেলার যোগ* ♦♦
আজ অমৃত বেলার পবিত্র মুহূর্তে আমি আত্মা, বাবার গভীর স্মরণে বসেছি --- কিছু সময় পরে নিজের অন্তর্নিহিত শক্তিকে উপলব্ধি করতে থাকি --- মনের মধ্যে এই প্রশ্ন ওঠে, আমি আত্মা কি ব্রহ্মা বাবার সমান হয়েছি ?
আমিও ব্রহ্মা বাবার মতো নিজের সূক্ষ্ম অন্তর্বাহক ফরিস্তা স্বরূপ দ্বারা সারা সৃষ্টি, তথা প্রতিটি গ্রহ নক্ষত্রকে পবিত্র করে তুলতে চাই •••• সঙ্কটাপন্ন, ভয়গ্রস্ত, চিন্তাগ্রস্ত আত্মাদের সহায়তা করতে চাই --- আমি সারা সৃষ্টির বায়ুমণ্ডলকে শুদ্ধ পবিত্র বানাতে চাই ।
বাস্তবে দিব্য চমত্কারী ব্রহ্মাবাবা সম্পূর্ণ হওয়ার পরে, আজও নিজের সূক্ষ্ম অন্তর্নিহিত ফরিস্তা শরীর দ্বারা, সূক্ষ্ম তথা স্থূল জগতকে সকাশ প্রদান করছেন -- তাদের শুদ্ধ পবিত্র বানাচ্ছেন ••• অসহায় আত্মাদের শক্তিতে ভরপুর করে তাদের সহায়তা করছেন ••• এমনই দিব্য চমত্কারী ফরিস্তা আমাকেও হতে হবে ।
শিববাবা আমার সংকল্প সিদ্ধির জন্য, আমার প্রতি দৃষ্টি দিয়ে নিজের অলৌকিক শক্তি প্রবাহিত করছেন, আর আমার স্থূল শরীর বিলীন হয়ে গেছে , আর আমি আত্মা নিজের সূক্ষ্ম অদৃশ্য প্রকাশময় ফরিস্তা রূপ ধারণ করেছি ।
বাপদাদা দ্বারা তাঁদের সমস্ত অলৌকিক দিব্য শক্তি, নিজের মধ্যে ভরপুর করে আমি সারা বিশ্বে ভ্রমণ করছি আর সবাইকে সকাশ দিচ্ছি ।
দারিদ্রতায় পীড়িত আত্মাদের মনসা সকাশ রূপী অনন্ত বাহু প্রসারিত করে ভোজন উপলব্ধি করাচ্ছি --- হেরে যাওয়া, শক্তিহীন, উদাসীন আত্মাদের সকাশ দ্বারা আবার শক্তিশালী করে তুলছি -- মানুষের অনুভব হচ্ছে কেউ আমাদের সাহায্য করছে, কিন্তু আমাকে কেউ দেখতে পাচ্ছেনা ।
বায়ুমণ্ডলে বিভ্রান্ত হয়ে বিচরণকারী আত্মাদের ও স্নেহ, শান্তি, ভালবাসার সকাশ দ্বারা ওদেরও মুক্ত করছি ।
করনকরাবনহার শিববাবা আমি আত্মা দ্বারা এই সেবা করাচ্ছেন -- যখন আমরা নিজেকে শিববাবার কাছে সমর্পণ করি, তখন শিববাবা স্বয়ং আমাদের দ্বারা আমাদের ক্ষমতার অধিক সেবা করিয়ে নেন -- শুধু মন বুদ্ধি দ্বারা নিজেকে ঈশ্বরীয় সেবায় সমর্পিত করতে হবে ।
♦♦ওম্ শান্তি
 শুভরাত্রি

অহংকার কেনো দূর করবো ?

*অাজকের মিষ্টি মোতি*
১৪ ই জুলাই :-- *নিজের ভিতর থেকে অহংকার দূর করে নিজেকে হালকা করো, কেননা উঁচুতে সেই উঠতে পারে, যে হালকা থাকে ।*
ওম শান্তি 
ব্রহ্মাকুমারীজ 

রাজযোগ
রাজযোগ মেডিটেশন

সুন্দর জীবনযাপন কিভাবে করবো ?

অমূল্য বচন*
*সুন্দর জীবনযাপনের জন্য আমরা রোজ কিছু ভালো জিনিস মনে রাখবো, আর কিছু খারাপ ভুলে যাবো ।*
ওম শান্তি 
☘☘☘

দেহভাবকে ত্যাগ করা

 *১৪ ই জুলাই, ২০১৯*
 *অাজকের পালনা*
*দেহভাবকে ত্যাগ করা -- এ হলো অনেক বড় ত্যাগ । এরজন্য প্রতি সেকেণ্ড নিজেকেই নিজে চেক করতে হয় । এই ত্যাগের দ্বারাই তপস্বী হতে পারবে আর এক বাবার সঙ্গেই সর্ব সম্বন্ধের অনুভব করবে ।*


তপস্যা এবং সেবা


 ১৩ ই জুলাই, ২০১৯
✨✨ অাজকের পালনা ✨✨
*প্রথমদিকে যেমন এই নেশা থাকতো যে, আমরা এই বৃক্ষের উপর বসে সম্পূর্ণ বৃক্ষকে দেখছি, তেমনই এখন বিভিন্ন প্রকারের সেবা করেও তপস্যার বল নিজের ভিতরে ভরতে থাকো । যাতে তপস্যা এবং সেবা দুইই কম্বাইন্ড আর একসাথে থাকে ।*
